প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৫২ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা-এ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা বিএনপি সভাপতির মধ্যে ফোনালাপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ড ঘিরে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাহুবল উপজেলা শাখার সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, মাসুক মিয়া ২০১৯ সেশনের কমিটিতে ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপরই উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতা গ্রেফতার করা মাসু্ক মিয়াকে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী বলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তখন মাসুক মিয়ার বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মখলিছুর রহমান ওসি সাইফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি গ্রেফতার মাসুক মিয়াকে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে ওসি সম্মত না হওয়ায় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন ফোনালাপের সময় উপজেলার বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ তুষার ওসিকে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত হয়ে গালাগালি করেন। পরবর্তীতে সেই ফোনালাপের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি কল আমি ধরতে পারিনি। পরে তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং বলেন, বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ তুষার চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর ফেরদৌস চৌধুরী তুষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। লাইভটি প্রকাশের পরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।