প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবাধে চলছে পুকুর খনন কার্যক্রম কৃষিজমি ও উঁচু জমি কেটে মাটি বিক্রির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নির্মাণকাজ, বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট প্রকল্পে মাটির চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিপুল লাভবান হলেও এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থা।
এক বিঘা জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে জমির মালিক বা ব্যবসায়ীরা কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কৃষিকাজে অনিশ্চিত লাভের চেয়ে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার আশায় জমির মাটি বিক্রিতে ঝুঁকছেন জমির মালিকরা। এতে স্বল্পমেয়াদে আর্থিক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
ইসলামপুর উপজেলার বলিয়াদহ এলাকায় রুহুল নামে এক দুর্ধর্ষ মাটির ব্যবসায়ী ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে বামনা এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধভাবে চলছে মাটি কাটার এ কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাটা মাটি মাহিন্দ্রা গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটা ও অন্যত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমি উর্বরতা হারাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে অনেক সময় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রকাশ্যে ফসলি জমি কাটা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, অল্প কয়েকজনের লাভের কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। কৃষিজমি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো অবনতির দিকে যেতে পারে পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থা
তবে এ বিষয় নিয়ে কিছু জানতে চাইলে ইসলামপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ান ইফতেকার বলেন, অসাধু মাটির ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে কৃষিজমি ও পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে, এতে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।