মনজু শেখ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার রাত থেকে এই নৌরুটে কোনো ফেরি চলাচল না করায় ঘাটের দু’পাশে অন্তত ৫০টির বেশি যানবাহন আটকা পড়েছে। ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঘাট সূত্রে জানা যায়, ধাওয়াপাড়া–নাজিরগঞ্জ নৌরুটে চলাচলকারী দুটি ফেরির একটির যান্ত্রিক ত্রুটি আগে থেকেই ছিল। অপর ফেরিটিও সোমবার রাত থেকে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় পারাপার। বিকল্প কোনো ফেরি না থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ঘাটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “কাল সন্ধ্যার দিকে গাড়ি নিয়ে ঘাটে এসেছি। এখনো পার হতে পারিনি। আমার গাড়িতে কাঁচামাল রয়েছে। সময়মতো পার হতে না পারলে মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।”
আরেক চালক রাজিব হোসেন বলেন, ঘাটে দুটি ফেরিই নষ্ট। মাঝেমধ্যে এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় আমাদের। কাল রাত থেকে বসে আছি, এখনো পার হতে পারিনি। এখানে অন্তত দুটি ভালো ফেরি স্থায়ীভাবে দিলে এই সমস্যা দূর হতে পারে।
মন্টু নামের আরেক নিয়মিত চালক অভিযোগ করেন, আমি প্রায় প্রতিদিন এই ঘাট ব্যবহার করি। কিন্তু প্রায়ই ফেরি সংকটে পড়তে হয়। কখনো ফেরি কম থাকে, কখনো নষ্ট হয়ে যায়। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি না। এই ঘাটে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ফেরি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী সহব্যবস্থাপক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই নৌরুটে দুটি ফেরি রয়েছে—একটি ‘করবী’ ও অপরটি ‘কপোতী’। এর মধ্যে করবী ফেরিটি আগেই বিকল হয়ে পড়ে। সোমবার রাত থেকে কপোতী ফেরির ইঞ্জিনেও ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। ফেরিটি সচল হলেই পারাপার স্বাভাবিক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘাটে ফেরি সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। দ্রুত বিকল্প ফেরি সরবরাহ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।