গণকন্ঠ প্রতিবেদক

মোঃ জনি মন্ডল, আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৫০ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

আঘাতের যন্ত্রণায় দিন কাটছে তানভীরের, ১১৫ দিনেও গ্রেফতার নেই কোনো আসামি।

আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ ডিগ্রি কলেজ ফুটবল দলের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার একশ পনের দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলায় নাম থাকা আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আইনগত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে।


এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদমদীঘি থানার ইনভেস্টিগেশন অফিসার বাবলু ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


 বাদীপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা আসামিদের শনাক্ত করতে আমাদের সহযোগিতা করে। কাউকে দেখলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ শেষে নওগাঁ থেকে আত্রাই ফেরার পথে আদমদীঘি থানার আওতাধীন কেল্লাপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যাচে পরাজিত সায়েম উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের ফুটবলার ও শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে রড, লাঠি, পাইপ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আত্রাই উপজেলার ফুটবলারদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


হামলায় আত্রাই উপজেলা ফুটবল একাদশের অধিনায়ক তানভীর ইসলাম গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


ঘটনার চার দিন পর তানভীরের বাবা মো. শাহাজাহান আলী আদমদীঘি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তা মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির কথাও উল্লেখ রয়েছে।


মামলায় বিশেষভাবে উঠে আসে সায়েম উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষক মারুফের জড়িত থাকার অভিযোগ, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় তানভীরের পরিবার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।