গণকন্ঠ প্রতিবেদক

ইঞ্জিঃ মো. আজহার উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ১২:৪৫ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

আখাউড়ায় অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ দাফন, পরিবারের সন্ধান মেলেনি

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের কোনো সন্ধান না মেলায় ‘মাটি পাগলা’ নামে পরিচিত এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ বে-ওয়ারিশ হিসেবে দাফন সম্পন্ন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।


রোববার (০১ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের উদ্যোগে মরদেহটি বে-ওয়ারিশ হিসেবে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন-এর উত্তর পাশে আউটারের ওয়াশফিড এলাকায় (রেলওয়ে কিমি নং ২০১/৩-৫ এর মধ্যবর্তী স্থানে) বার্ধক্যজনিত কারণে আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ মৃত্যুবরণ করেন। খবর পেয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে প্রেরণ করে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করলেও কোনো পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের উদ্যোগে মরদেহটি বে-ওয়ারিশ হিসেবে দাফন সম্পন্ন করা হয়।


স্টেশনের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত বৃদ্ধকে অনেকে “মাটি পাগলা” নামে চিনতেন। তবে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা বা স্বজনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে ভবঘুরে হিসেবে ভাসমান জীবনযাপন করছিলেন বলে জানা গেছে।


আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. শফিকুল ইসলাম জানান, অপমৃত্যু মামলা নং- ০৬/২৬ (তারিখ: ২৬.০২.২০২৬ ইং) রুজু করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কোনো স্বজনের সন্ধান মেলেনি।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা অজ্ঞাত ও বে-ওয়ারিশ মরদেহ দাফনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সমাজের অবহেলিত ও পরিচয়হীন মানুষদের শেষ বিদায়ে সম্মান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”


উল্লেখ্য, এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের উদ্যোগে মোট ২৪৬টি বে-ওয়ারিশ মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।