প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ০১:৩৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবিঃ সংগৃহীত
সৃষ্টির আদি থেকে মানুষ শান্তি ও মুক্তির অন্বেষণ করে আসছে। কিন্তু প্রকৃত শান্তি ও সফলতার পথ কোনটি? আধুনিক এই জটিল পৃথিবীতে যখন মানুষ দিশেহারা, তখন পবিত্র কুরআন আমাদের সামনে তুলে ধরে এক শাশ্বত ও নিখুঁত জীবন বিধান। মূলত, আল-কুরআন কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য স্রষ্টা প্রদত্ত এক পূর্ণাঙ্গ জীবনসংহিতা।
কুরআনের মূল বাণী হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদ। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও ক্ষমতায় অন্য কারো কোনো অংশীদার নেই। তিনি বিশ্বজগতের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, মালিক এবং নিয়ন্ত্রক। মানুষের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। কারণ, সমস্ত ক্ষমতার উৎস তিনি এবং তাঁর সন্তুষ্টির মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত মুক্তি।
পার্থিব জীবনই শেষ নয়। মৃত্যুর পর প্রত্যেক মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে এবং তাঁর কর্মের হিসাব নেওয়া হবে। যারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলবে, তাদের জন্য রয়েছে চিরসুখের জান্নাত। আর যারা অবাধ্য হবে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এই পরকালীন সচেতনতাই মানুষকে পৃথিবীতে সৎ ও সুশৃঙ্খল পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।
পবিত্র কুরআন যে মুক্তির পথ দেখিয়েছে, তা বাস্তব জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, তার সর্বোত্তম উদাহরণ হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলার একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ মডেল। কুরআনের বিধান অনুযায়ী রাসূল (সা.)-এর অনুসৃত নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করেই মানুষ পার্থিব শান্তি ও পরকালীন সফলতা অর্জন করতে পারে।
এই মহাবিশ্বের মূল বিষয়বস্তু হলো 'মানুষ'। মানুষের লাভ-ক্ষতি, কল্যাণ-অকল্যাণ এবং মুক্তি-শাস্তির পথ কী হবে, তা নির্ধারণের একমাত্র সঠিক মানদণ্ড হলো কুরআন। এটি এমন এক কিতাব যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখায়। জীবনের সকল খুঁটিনাটি বিষয়ে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে এটি আমাদের সাহায্য করে।
আল-কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অমূল্য নেয়ামত। এটি সন্দেহাতীত এক সত্য বাণী যা কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। মানবজাতির ইহলৌকিক শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য কুরআনের ছায়াতলে ফিরে আসার কোনো বিকল্প নেই। তাই আসুন, আমরা কুরআনকে গভীরভাবে জানি, বুঝি এবং নিজের জীবনে এর বিধানগুলো কার্যকর করি। তবেই সার্থক হবে আমাদের মানবজীবন।