গণকন্ঠ প্রতিবেদক

রবিউল ইসলাম , সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

আমের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত সাপাহারে গাছে গাছে মুকুল, স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

ছবি: সংগৃহীত

আমের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় বসন্তের শুরুতেই গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। এতে ভালো ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার হাজারো আমচাষি।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি গাছেই পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। বাগানজুড়ে মৌমাছির গুঞ্জন আর চাষিদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে সম্ভাবনাময় একটি আম মৌসুমের। মুকুল সংরক্ষণে বর্তমানে বাগান পরিচর্যা, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।


উপজেলার শিরিন্টী ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল মালেক বলেন, “এবার গাছে অনেক ভালো মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি। আমের ওপরই আমাদের সংসার নির্ভর করে।”

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি ও বারি জাতের আমের চাষ বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে মুকুল সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৃষকদের নিয়মিত বাগান পরিচর্যা ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।”


সাপাহারের আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলে ইতোমধ্যে সাপাহারের আম উৎপাদন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে।


তবে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। অকাল ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা বিরূপ আবহাওয়া মুকুলের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


সংশ্লিষ্টরা জানান, আম সাপাহার উপজেলার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। আম মৌসুমকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।


গাছে গাছে মুকুলে ভরে ওঠা আমবাগান তাই এ অঞ্চলের কৃষকদের মনে সম্ভাবনাময় একটি মৌসুমের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।