বিপুল হোসেন সৈকত , রাজশাহী প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
রজশাহীর বিস্তীর্ণ প্রান্তরে একসময় যতদূর চোখ যেত, দেখা মিলত সবুজে ঘেরা আমবাগানের। সেই বাগানই এখন হারিয়ে যাচ্ছে নীরবে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভে গত বছর জেলার সবচেয়ে বেশি আমবাগান উজাড় করেছেন চাষিরা। এতে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আমবাগান।
যেখানে বছরে উৎপাদন হতো প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ টন আম। বাগান উজাড়ের এই প্রভাব পড়তে পারে চলতি মৌসুমের আমের বাজারে- কমতে পারে সরবরাহ, বাড়তে পারে দাম, আর এর মধ্যেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন আমনির্ভর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
এক আম বাগান মালিক বলেন, আমি গতবার যে টাকা দিয়ে গাছের বিষ-পানি দিয়েছি তার অর্ধেক টাকাও আম বিক্রি করে তুলতে পারিনি৷ সার বিষের দোকানে বাঁকি শোধ করার জন্য এইবার আমা বাগান কেটে গাছ বিক্রি করে দিয়েছি আমার বিঘাতে এখন ৩ ফসল হচ্ছে। আমি আম বাগান কেটে এখন মৌসুমি চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছি।
ইতোমধ্যে ভরা বসন্তে আমের মুকুলে সেজেছে রাজশাহীর বাগানগুলো। কোথাও স্বর্ণালী, কোথাও আবার খয়েরি ছোঁয়ায় রঙিন এমন দৃশ্য যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব। হালকা ঊষ্ণ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, আর সেই সুবাসে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন বাগানিরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের। গেল বছর ছিল ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর। লক্ষমাত্রা ২ লাখ ৬০ হাজার টন। এক বছরে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আম বাগান।