এম এ হাসান, টেকনাফ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:৩৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; জেলে সম্প্রদায়
নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া আটককৃত ৭৩ জন জেলেদের ফেরত আনলেন বর্ডার গার্ড বিজিবি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) বিকালে ৪ ঘটিকায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিগত ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গমনকৃত বেশকিছু বাংলাদেশী জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমার এর জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে আরাকান আর্মি আটক করে। পরবর্তীতে, আটককৃত জেলেদের মায়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সে সকল ক্যাম্পে আটকরত অবস্থায় থাকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার প্রদান করে কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সমন্বিত উদ্যোগ এর ফলশ্রুতিতে, আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে আটক জেলেদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা গৃহীত হয়।
সিও আরও বলেন, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ধাপে মোট ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনলেন বর্ডার গার্ড বিজিবি। এর মধ্যে ৭জন রোহিঙ্গা ও ৬৬ বাংলাদেশী জেলে। তারা নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির নিকট হতে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনা হয়েছে এবং স্ব-স্ব পরিবারের নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইতিমধ্যে স্থানীয় উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সফল উদ্যোগ এর ফলে আটক জেলেদের পরিবার-পরিজনের মাঝে স্বস্তি ও আশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণে আটক জেলেদের আসন্ন রমজান এর পূর্বে এই প্রত্যাবর্তন সামগ্রিকভাবে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানায় তিনি।
এদিকে: ফেরত আসা বাংলাদেশী জেলে নুরুল আলম বলেন, ভাই কলিজা ফেটে যাচ্ছে।কি বলব আমাদের অনেক মারধর নির্যাতন করেছে আরাকান আর্মি। আমি হাঁটতে পারতেছি না। আমাদের ২৪ ঘন্টা মিলে এক বেলা খাওয়ার দিয়েছে। আমরা প্রাণে বেঁচে আসতে পারছি এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম বলেন, আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এখন আমি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।ওনি ভালোভাবে কথা বলতে পারতাছে না। ভালোভাবে কথা ও বলতে পারতাছে না।
ফেরত আসা আরেক জেলে বশির আহমেদ বলেন, আমি পাঁচ মাস আগে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়। প্রথমে আমাদের বাংলাদেশী বলায় হাত পা বেঁধে অনেক মারধর করেছে। শুধু বলে কেন বাংলাদেশ সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। তোমার সাগরে মাছ শিকার করার জন্য তোমাদের সরকার কেন চুক্তি করে না বলে প্রচুর মারধর করে।