গণকন্ঠ প্রতিবেদক

সাব্বির, গাজীপুর প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন মুক্তির সোপান মাহে রমজান: গুরুত্ব ও ফজিলত

ছবি; সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে ইমান ও সালাতের পরেই সিয়াম বা রোজার অবস্থান। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর রমজান মাসের রোজা পালন করা ফরজ। ‘সাওম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা, যার বহুবচন হলো ‘সিয়াম’।

পারিভাষিক অর্থে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, পাপাচার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাই হলো রোজা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রোজার নানাবিধ ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম।


​কুরআনের আলোকে রোজার আবশ্যকতা:

​মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা তাকওয়া (খোদাভীতি) অর্জন করতে পারো।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ, রোজার মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে মুত্তাকী বা পরহেজগার হিসেবে গড়ে তোলা।


​হাদিসের দৃষ্টিতে রোজার মাহাত্ম্য:

​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)। রমজান হলো গুনাহ মাফের বসন্তকাল। এই মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরজের সমান এবং একটি ফরজ ইবাদত সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব বহন করে।


​রোজার বিশেষ কিছু ফজিলত:

​১. আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রতিদান: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “রোজা কেবল আমারই জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।” অন্যান্য ইবাদতের সওয়াব নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলেও রোজার সওয়াব হবে অপরিসীম।

২. জান্নাতের বিশেষ প্রবেশদ্বার: জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন।

৩. জাহান্নামের ঢাল: রোজা মুমিনের জন্য ঢালস্বরূপ, যা তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে।

৪. দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়: রোজাদারের দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। বিশেষ করে ইফতারের পূর্বমুহূর্তে আল্লাহ বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং তাদের মোনাজাত কবুল করেন।

৫. লাইলাতুল কদরের মহিমা: এই মাসেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’, যা মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের।


​রোজাদারের নৈতিক আচরণ ও আমাদের করণীয়: ​রোজা কেবল উপবাস থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মসংযমের প্রশিক্ষণ। রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, রোজা রেখে কেউ যেন অশ্লীল কথা না বলে বা বিবাদে লিপ্ত না হয়। এমনকি কেউ গালি দিলেও রোজাদারকে বলতে হবে— “আমি রোজাদার।” এছাড়া রোজার মাধ্যমে মানুষের কামভাব ও নফস নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দরিদ্রের ক্ষুধা অনুধাবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।


​উপসংহার:

​রমজান আমাদের সামনে তওবা ও আত্মশুদ্ধির এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে। কিয়ামতের দিন রোজা ও আল-কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। তাই লৌকিকতামুক্ত ও ত্রুটিহীন রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহভাবে রমজানের আমল করার তৌফিক দান করুন,আমিন।