প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবান্ন-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন সেখানে সহিংসতা বা অস্থিরতা হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা ব্যানার্জী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন এলেই সহিংসতার নজির দেখা যায়। অথচ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে প্রতিবেশী দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব, সেখানে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে।
এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। নাম উল্লেখ না করে কমিশনের এক কর্মকর্তার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কে কোথায় বসে কী পরিকল্পনা করছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে মমতা একে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষ্য, এই ধরনের হুমকি ও চাপের সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তের অংশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন জেলা প্রশাসকদের হুমকি দিয়ে বলছে তাদের চাকরি কমিশনের হাতে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কেও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে।
মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে অনেক কিছু ঘটেছে, তবে তারা এখনো সব প্রকাশ করেননি। প্রয়োজন হলে তিনি সব তথ্য প্রকাশ করবেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাস করে। তবে কেউ যদি মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, তিনি দেশের বিরুদ্ধে নন, বরং দেশকে ভালোবাসেন। কিন্তু একদিকে স্বচ্ছ নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হচ্ছে—যা তিনি অন্যায়ের সঙ্গে তুলনা করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সবাইকে দায়ী করছেন না, তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে তিনি কারাগারে যেতেও প্রস্তুত আছেন এবং নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।