বগুড়া প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
বগুড়া সদরে দুইটি লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহারের দায়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়া জেলা কার্যালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে বগুড়া সদর উপজেলার আটা পাড়ায় অবস্থিত ইসলামিয়া লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে ১ লাখ টাকা এবং বৃন্দাবন পাড়ায় অবস্থিত জেমি লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
অভিযানকালে কারখানা দু’টিতে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, শ্রমিকরা পায়ে মাড়িয়ে সেমাই তৈরির ময়দার ডো প্রস্তুত করছেন, যা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও খাদ্য নিরাপত্তা নীতিমালার পরিপন্থী।
এছাড়া অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছিল। উৎপাদন কক্ষে মেঝে অপরিষ্কার, চারপাশে ময়লা-আবর্জনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব লক্ষ্য করা যায়।
অভিযান দল আরও দেখতে পায়, অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং ব্যবহার করে সেমাই উৎপাদন ও মোড়কজাত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডালডা গলিয়ে এবং পোড়া তেল ব্যবহার করে সেমাই প্রস্তুত করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এসব অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদি হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নমুনা সংগ্রহ সহকারী মো. শরীফুল ইসলাম, ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুল কাদের এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ফৌজিয়া। সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের প্রণীত আইন ও বিধি মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়।