গণকন্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৪৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

ড. ইউনূস ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মো. তারেক

ছবি : সংগৃহীত

আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। এক ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা আগেভাগেই দেশ ছেড়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি সংবাদ দেখলে সাধারণ মানুষ বিস্মিত হবেন।

লাইভে তারেক রহমান ফায়েজ তৈয়্যব আহমেদের একটি আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি নাকি বলেছিলেন মুখ খুললে “অনেকের প্যান্ট খুলে যাবে।” তারেকের দাবি, এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সেই বক্তব্যই উল্টো প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে এবং দেশত্যাগের ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড় করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ ছাড় করতে রাজি না হয়ে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেন বলে তারেকের দাবি। এরপর প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ব্যবহার করে দুদক চেয়ারম্যানকে তলব করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তদন্ত প্রক্রিয়া থামাতে দুদকে চিঠি দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, একটি বড় প্রকল্পে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছিল দুদক। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সেই অনুসন্ধান এখনও শেষ হয়নি বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, বিটিসিএলের সক্ষমতা বাড়াতে ৫জি উপযোগী অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বুয়েটের মাধ্যমে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও পরে সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় ৩২৬ কোটিতে উন্নীত করার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করলে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নামও দুর্নীতির আলোচনায় এসেছে বলে তারেক উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম অভিযোগ পেয়ে প্রকল্প-সংক্রান্ত জিও বাতিল করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব নেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফায়েজ তৈয়্যব আহমেদ এবং তিনি আবার প্রকল্পের কার্যক্রম চালু করেন। দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে ফ্যাক্টরি টেস্ট ছাড়াই চীন থেকে মালপত্র আনা হয় এবং সহ-সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারেক।

শেষে তিনি বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তারা শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে তিনি আশা করছেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি সংশ্লিষ্টরা সৎ হন, তবে অভিযোগের জবাব প্রকাশ্যে দিচ্ছেন না কেন এবং কেনই বা বিদেশে অবস্থান করছেন। এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।