প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৮:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছাত্রদলের ১১ অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নানা অনিয়ম এবং অসামঞ্জস্যের বিষয়ে মোট ১১টি অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, প্রশাসন এসব বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবিদুল ইসলাম খান লিখিত অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। তিনি জানান, অভিযোগগুলো নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৫টিতেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়। নির্বাচনের দিন দুপুর থেকেই অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ করতে শুরু করেন।
আবিদুল ইসলাম বলেন, 'বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, বরং ইচ্ছে করে দেরি করছেন। তাই আমরা মনে করি, এই নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় একটি নেতিবাচক ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবে জায়গা পেতে চলেছে।'
তিনি আরও বলেন, "যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসন বিষয়গুলো নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারছে, আমাদের পক্ষে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পথে ফিরে এসে দ্রুত এসব অনিয়মের তদন্ত করবে এবং সবার সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরবে।
এ সময় প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানভীর বারী হামিম, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল:
১.নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে ব্যালট দেওয়া এবং ভোটার উপস্থিত হওয়ার আগেই তালিকায় স্বাক্ষর করে দেওয়াসহ নানা জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।
২.ব্যালট পেপারে কোনো ক্রমিক নম্বর ছিল না এবং ছাপানো, ব্যবহৃত ও বাতিল হওয়া ব্যালটের কোনো হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
৩.ভোট গণনার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না।
৪.ভোটের আগের রাতে অনেক পোলিং এজেন্টকে বাদ দেওয়া হয় এবং তাদের আইডি কার্ডও যথাসময়ে দেওয়া হয়নি।
৫.নির্বাচনের দিন শুধু একটি নির্দিষ্ট প্যানেল ছাড়া বাকিদের ১৮টি কেন্দ্রের পরিবর্তে ৮টি কেন্দ্রের কথা জানানো হয়েছিল।
৬.একজন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অবাধ প্রবেশ এবং বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।
৭.ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্টদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়, যে কারণে অনেক পোলিং এজেন্ট রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর না করেই কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
৮.ভোট দেওয়ার জন্য মার্কার পেনের বদলে বলপেন ব্যবহার করতে হয়েছে, যে কারণে অনেক ভোট গণনা করা হয়নি।