গণকন্ঠ প্রতিবেদক

দৈনিক গণকণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:০১ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় গৃহবধূকে তালাক

প্রতীকী ছবি

ফেনীর পরশুরামে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় রুনা আক্তার মুন্নি (৩২) নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামী নুর মোহাম্মদ সুমন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলিরকুল গ্রামে।


সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী রুনা আক্তার জানান, ভোটের আগের দিন রাতে স্বামী আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কোথায় ভোট দিব? তাকে আমি বলেছি ছোটকাল থেকে দেখে আসছি আমার বাবা ধানের শীষে ভোট দেয়, আমিও ধানের শীষে ভোট দিব। সে আমাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে। সে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরে আমি রাজষপুর আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আসি।


রাতে বাড়ি ফিরে আমাকে বলে আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি, এখানে দাঁড়িপাল্লা পাশ করেছে। আমি ধানের শীষে ভোট দিয়েছি বলার পরে রাতে আর কোনো কথা বলেনি। পরের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমাকে ও আমার বড় ছেলেকে মারধর করে বাড়ি থেকে জমির কাগজপত্র ও দলিল নিয়ে বের হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত সে আর ঘরে ফেরেনি। প্রতিবেশীদের সে জানিয়েছে আমাকে কোর্ট থেকে তালাক দিয়েছে।


রুনা আক্তারের স্বামী নুর মোহাম্মদ সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে তার সাথে ঘরসংসার করতে না পেরে তাকে তালাক দিয়েছি। ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তালাক দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।


তিনি বলেন, রুনা আক্তার ভোটার হননি, ভোট কিভাবে দেবে?


তিনি বলেন, আরও আগেই তাকে তালাক দেওয়া উচিত ছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনী নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে ডাকযোগে তাকে তালাকনামা পাঠিয়েছি।


জানা গেছে, রুনা আক্তার ভোটার হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর চিথলিয়া ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের নুর আহমেদের মেয়ে রুনা আক্তার মুন্নিকে বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে নুর মোহাম্মদ সুমন। তাদের ঘরে মোবারক হোসেন মুরাদ (১০) ও মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসেন (৩) নামে দুইজন ছেলেসন্তান রয়েছে। রাজষপুর বাজারে ভাই ভাই স্টোর নামে সুমনের একটি দোকান রয়েছে।


এদিকে এফিডেভিটের প্রাপ্ত কপিতে দেখা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনীর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের আইনজীবী রবিউল হক রবির স্বাক্ষরে নুর মোহাম্মদ সুমনের তালাকনামা সংক্রান্ত এফিডেভিট ইস্যু করা হয়। তাকে শনাক্তকারী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেন মানিক।


তালাকনামায় রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে সংসার জীবন পালন করতে অক্ষম, পরিবারের লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ ও মান্য না করাসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন নুর মোহাম্মদ সুমন।


নুর মোহাম্মদ সুমনের প্রতিবেশী কাউসার আলম বলেন, সুমন বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরে বিষয়টি আমাকে রুমা আক্তার জানায়। তার দুটি অবুঝ ছেলেকে কে দেখবে? এটি ভাবা উচিত ছিল।


প্রতিবেশী কৃষক আবদুল কাদের বলেন, গত রোববার সুমন আমাকে ফোন দিয়ে জানায়- আদালত থেকে তালাকনামা পাঠিয়েছি, তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলবেন।


ঘটনাটি জানাজানি হলে চিথলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুন্সী নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার শেখ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা সুমনের বাড়িতে উপস্থিত হন।


‎উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে সুমন স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনার কারণের সামাজিক অবক্ষয় ঘটবে।