প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ১০:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ডিএনএ প্রোফাইলিং ও উন্নত ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতনামা আট শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। মিনেসোটা প্রোটোকল মেনে মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়। ইতোমধ্যে নয়টি পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে; একটি মরদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
শনাক্ত হওয়া শহীদদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহ, শেরপুর, চাঁদপুর, পিরোজপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও ঢাকার বাসিন্দারা। তারা ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে ২ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় নিহত হন। পরিচয় নিশ্চিতের পর কবরগুলো সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজনদের কান্নায় রায়েরবাজারের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ১৮ মাস পর প্রিয়জনের কবর খুঁজে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মোট ১১৪টি অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফনডেরিডার প্রক্রিয়াটি তদারক করেন। এর আগে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ সিআইডির ফরেনসিক ও ডিএনএ টিমকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্ভাব্য সব শহীদের পরিচয় শনাক্ত ও মর্যাদার সঙ্গে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এই উদ্যোগ একদিকে যেমন স্বজনদের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।