গনকন্ঠ প্রতিবেদক (ডোমার)
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ০৪:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ডোমার উপজেলার একটি মুড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ও শিল্প লবণ ব্যবহারের অভিযোগে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিরাপদ খাদ্য অফিসার, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে সন্তোষী মুড়ি মিলে মুড়ি উৎপাদনের সময় ‘হাইড্রোজ’ নামের একটি ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। পাশাপাশি খাবার উপযোগী লবণের পরিবর্তে শিল্প লবণ ব্যবহার এবং তা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের বিষয়টিও ধরা পড়ে।
অভিযানকারী কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা শিল্প লবণ একটি গোয়ালঘরের ভেতরে রাখা ছিল, যা স্বাস্থ্যবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত চালের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া প্যাকেজিং প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছিল না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একই মিল মালিককে সতর্কতামূলক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ক্ষতিকারক উপাদান ধ্বংস করা হয়। কিন্তু সতর্কবার্তার পরও অনিয়ম বন্ধ না হওয়ায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায়, বিশেষ করে ৪২ ধারা ভঙ্গের দায়ে মিল মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা ও অন্যান্য গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিল্প লবণ কোনোভাবেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।