প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা হবে আরও স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএর নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট এড়াতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিউল আলম বলেন, নদীপথে দূষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে খাদ্যপণ্য খালাসে বিলম্ব করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, এসব খাদ্যপণ্য আমদানিকারকদের গুদামে খালাস করার কথা থাকলেও ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত নদীতেই জাহাজে রাখা হয়েছে।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকসানা খায়রুন নেসা বলেন, যেসব কোম্পানি পণ্য খালাস না করে ভাসমান অবস্থায় রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। ইতোমধ্যে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ডেপুটি নটিক্যাল সার্ভেয়ার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ডিকসন চৌধুরী বলেন, পরিদর্শনে তিনটি লাইটার জাহাজ নোঙর করা পাওয়া যায়। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এসব জাহাজ ৬ থেকে ১৮ দিন ধরে সেখানে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, অনেক সময় গুদাম খালি না থাকায় জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে অসৎ উদ্দেশেও পণ্য আটকে রেখে পরে দাম বাড়লে বাজারে ছাড়ার প্রবণতা রয়েছে। এতে একদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, অন্যদিকে জাহাজ মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ডিকসন চৌধুরী বলেন, এসব অনিয়ম ঠেকাতে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৮৩৮টি জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।