মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টফুল বৃত্তি অর্জন করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কৃতি শিক্ষার্থী নাবিলা তাহসিন তোড়া।
তার এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি তার সাফল্যের পেছনের গল্প ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অধ্যয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং নৈতিকতার শক্ত বার্তা।
সাক্ষাৎকার
মিয়া সুলেমান: অভিনন্দন। ট্যালেন্টফুল বৃত্তি ও প্রথম স্থান অর্জনের খবর পেয়ে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। নিজের পরিশ্রমের ফল পেয়ে গর্ব অনুভব করেছি। বাবা–মা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আরও বেড়ে গেছে এবং নিজের ওপর বিশ্বাসও দৃঢ় হয়েছে।
মিয়া সুলেমান: প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: স্কুল সময়ের বাইরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। স্কুলের পড়া বাসায় এসে নিয়মিত রিভিশন দিতাম এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়ার চেষ্টা করতাম।
মিয়া সুলেমান: কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে তুলনামূলক কঠিন মনে হতো? সেগুলো কীভাবে আয়ত্ত করেছেন?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: নিয়মিত পড়াশোনার কারণে তেমন কোনো বিষয় খুব কঠিন মনে হয়নি। তবে গণিত ও ইংরেজির প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিয়েছি। শিক্ষক ও বাবা–মায়ের সহায়তায় এবং বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সহজ হয়ে গেছে।
মিয়া সুলেমান: আপনার এই সাফল্যের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: নিঃসন্দেহে আমার বাবা–মা ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তারা সবসময় আমাকে নিয়মিত পড়াশোনা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।
মিয়া সুলেমান: পরীক্ষার আগের সময় ভয় বা মানসিক চাপ কীভাবে সামলেছেন?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: যেহেতু প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না, তাই খুব বেশি দুশ্চিন্তা হয়নি। পরীক্ষার আগে নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে মানসিক চাপ সামলেছি এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি।
মিয়া সুলেমান: ভবিষ্যতে আপনি কী হতে চান?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: প্রথমত আমি একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হতে চাই। পাশাপাশি ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই—ইনশাআল্লাহ।
মিয়া সুলেমান: আগামী বছর যারা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ফাঁকি দেওয়া যাবে না।
মিয়া সুলেমান: আপনার সাফল্য সম্পর্কে সংক্ষেপে কী বলতে চান?
নাবিলা তাহসিন তোড়া: “পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে সফলতা অবশ্যই আসবে—এটাই আমার বিশ্বাস।”
মিয়া সুলেমান: আপনাকে ধন্যবাদ।
নাবিলা তাহসিন তোড়া: আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।
প্রাসঙ্গিক তথ্য, নাবিলা তাহসিন তোড়া আঠারোবাড়ি এমসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ট্যালেন্টফুল বৃত্তি অর্জন করেছে। তিনি সরকারি চাকরিজীবীদ্বয় সাইফুল আমিন সরকার (পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ)-এর কন্যা এবং তার মাতা তাসলিমা আক্তার শাপলা, যিনি একজন সহকারী শিক্ষক (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।