রাহাত শেখ, গাজীপুর প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুর-২ আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শিল্পসমৃদ্ধ এ জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। এমন মতামতই জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী নাসের খান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯২ ভোট। ৪৯ হাজার ১৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে তিনি বিজয়ী ঘোষণা হন।
গত বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটের দিন রনি নিজ গ্রামের সালনা মাদ্রাসা কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন, যা স্থানীয়দের নজর কাড়ে।
বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় রনি বলেন, “এ বিজয় আমার একার নয়, গাজীপুরবাসীর। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—সবার প্রতিনিধি হিসেবেই আমি কাজ করব।”
তিনি গাজীপুরকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও মাদকমুক্ত নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ, রেলগেটের ওপর ওভারপাস নির্মাণের মাধ্যমে যানজট নিরসন, শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বিজয়ের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া, পিতা-মাতার কবর জিয়ারত এবং নিজ হাতে নির্বাচনী বিলবোর্ড অপসারণের মাধ্যমে তিনি প্রতীকী সূচনা করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও তরুণ ভোটারদের অনেকে মনে করেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও গাজীপুর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের সমস্যায় ভুগছে। মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থাকলে এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তাদের অভিমত।
এছাড়া রনির পিতা অধ্যাপক এম এ মান্নান সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র ছিলেন।এজন্য অধ্যাপক এম এ মান্নানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের মতে, অতীতে এলাকার অবকাঠামো ও শিক্ষাখাতে তার অবদান স্মরণীয়; সেই ধারাবাহিকতায় রনির প্রতিও বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুরে এ বড় জয় স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্পনগরীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছেন গাজীপুরবাসী।