গণকন্ঠ প্রতিবেদক

গাজীপুর প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ০৩:২৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

গাজীপুরে পুলিশের ওপর গ্রামবাসীর হামলা: হাতকড়াসহ ২ আসামিকে ছিনতাই

ছবি; গণকন্ঠ

গাজীপুরের শ্রীপুরে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। ‘ডাকাত’ ও ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয়রা। এতে টাঙ্গাইল সদর ও শ্রীপুর থানা পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশকে মারধর করে হাতকড়াসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় গ্রামবাসী।

রোববার (১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে পরবর্তীকালে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া দুই আসামিসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।


​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর থানার একটি অপহরণ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে টাঙ্গাইল থানা পুলিশের ছয় সদস্যের একটি টিম শ্রীপুরে আসে। স্থানীয় শ্রীপুর থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে তারা নিজমাওনা গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আদিল (২২) ও স্বয়ং মনির হোসেনকে (৫০) গ্রেপ্তার করে।


​অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় আসামিদের পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন। তারা ‘ডাকাত এসেছে’ ও ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে চিৎকার করলে আশপাশের বাসিন্দারা জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা।


​বর্বরোচিত হামলা ও কামড়

​প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। 


এসময় আসামিপক্ষের নারী সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে দিয়ে গুরুতর জখম করেন। হামলায় দুই থানার মোট ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই আসামিদের ধরা হয়েছিল। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।


​শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাই।


 ছিনতাই হওয়া দুই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকেও আটক করা হয়েছে।"


​এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দান এবং হামলার অভিযোগে একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।