গণকন্ঠ প্রতিবেদক

(দিনাজপুর) ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি: সাকিব হাসান নাইম

প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ০৪:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

ঘোড়াঘাটে সংবাদ প্রকাশ করায় মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় সাংবাদিক আহত: এলাকায় উত্তেজনা

ছবি সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মাদক ব্যবসায়ীর হামলার শিকার হয়েছেন মো. ফাহিম হোসেন রিজু নামে এক সাংবাদিক।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ফাহিম হোসেন রিজু জাতীয় দৈনিক "নববাণী" পত্রিকার ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক ফাহিম হোসেন রিজু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবং স্থানীয়দের তথ্যে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. নবী মিয়াকে (৩২) মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে সাজা প্রদান করা হয়।


চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. নবী মিয়া (৩২) উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে।


কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই নবী মিয়া এই ঘটনার জন্য সাংবাদিক ফাহিম হোসেন রিজুকে দায়ী করে আসছিলেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫:১০ মিনিটে ফাহিম কুলানন্দপুর গ্রামে সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষ করে ফেরার পথে জনৈক হেংঞ্চানালের বাড়ির সামনে ওত পেতে থাকা নবি মিয়া ও তার ৪-৫ জন সহযোগী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ফাহিমকে ঘেরাও করে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। একপর্যায়ে ফাহিম কৌশলে দৌড়ে নিকটস্থ জনৈক জান্নাতের মুদি দোকানে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। যাওয়ার সময় নবী মিয়া প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যান।


এই ঘটনায় সাংবাদিক ফাহিম শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি রবিবার (১ মার্চ) ঘোড়াঘাট থানায় নবি মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে।"


ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।