গণকন্ঠ প্রতিবেদক

মো মুরসালিন চৌধুরী হাটহাজারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:২০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

হালদা নদীর সেতুর পিলারে ‘বিপদজনক অ্যাঙ্গেল’, ডলফিন ও মা মাছের প্রাণহানির অভিযোগ সমাজকর্মী মো: আলীর

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হালদা নদীকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী মোহাম্মদ আলী। তার দাবি, নদীর ওপর নির্মিত বিভিন্ন সেতুর পিলারের সঙ্গে থাকা লোহার অ্যাঙ্গেল ও কিছু কাঠামোগত ত্রুটির কারণে জোয়ার-ভাটার সময় মা মাছ আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত মাছের মৃত্যু ঘটছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের মৎস্য অর্থনীতিতে।

মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেতু নির্মাণের সময় পিলারের চারপাশে থাকা কিছু ধারালো বা উন্মুক্ত অংশ পানির তীব্র স্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডিম ছাড়ার মৌসুমে মা মাছ যখন উজানে-ভাটিতে চলাচল করে, তখন এসব স্থানে ধাক্কা লেগে গুরুতর আঘাত পাচ্ছে। অনেক সময় আঘাতের ফলে মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরে মারা যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।


উল্লেখ্য, হালদা নদী বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে কার্পজাতীয় মা মাছের একমাত্র প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার রেণু ও মা মাছ দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর এই নদী থেকে ডিম ও পোনা সংগ্রহ করে সরকার প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আয় করে থাকে। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় হালদার মাছের আন্তর্জাতিক চাহিদাও ব্যাপক। অনেক ক্ষেত্রে একটি মা মাছের ওজন ১০ থেকে ১৫ এমনকি ২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।


মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, শুধু মা মাছ নয়, এ নদীতে ডলফিনেরও চলাচল রয়েছে। মাঝেমধ্যে ডলফিন চোখে পড়ে, যা নদীর জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার আশঙ্কা, সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো ডলফিনের জন্যও বিপদ ডেকে আনতে পারে।


বিভিন্ন সময় নদীর তীরে মৃত মা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। বিশেষ করে রামদাস মুন্সিরহাট, মদুনাঘাট, খন্দকিয়া ও নোয়াহাট এলাকায় এমন ঘটনা বেশি ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। খবর পেলেই মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হালদার পরিবেশ, মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন।


সমাধান হিসেবে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, সেতুর পিলারের বিপজ্জনক লোহার এঙ্গেল গুলো পাটের দড়ি, জিও ব্যাগ বা সূতির কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিলে কিছুটা আঘাত কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এতে মাছের সরাসরি আঘাত কমবে এবং প্রাণহানি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে তার বিশ্বাস।


তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত জরিপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মা মাছের প্রজনন কেন্দ্র হুমকির মুখে পড়তে পারে। হালদাকে রক্ষা করা মানে দেশের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করা।