নারায়ন চন্দ্র রায়, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি। প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। নেই কোনো বই, খালি পড়ে আছে তাক। অর্ধসমাপ্ত অবকাঠামো আর অনিশ্চয়তার মধ্যে হতাশ স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর লাইব্রেরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা একে উপজেলার তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে বাস্তবে তিন মাসেও শুরু হয়নি নিয়মিত কার্যক্রম।
সরেজমিনে যা দেখা গেল সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের কয়েকটি জানালায় এখনো চূড়ান্ত রঙের কাজ শেষ হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগের অংশও অসম্পূর্ণ। কক্ষের ভেতরে নির্মাণসামগ্রীর চিহ্ন রয়ে গেছে। পাঠকের জন্য টেবিল-চেয়ার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও পুরোপুরি স্থাপন করা হয়নি। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়—লাইব্রেরির তাকগুলো এখনো খালি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় লাইব্রেরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন,“জানালার চূড়ান্ত রঙ এবং ইলেকট্রিকের কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ হলেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।”
বই না আসার বিষয়ে তিনি জানান,
“বইয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। নির্মাণ বাজেটের সঙ্গে বই কেনার অর্থ যুক্ত নয়।”
প্রকল্পের ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন,
“ইউএনও স্যার ফোন দিয়ে বলেছেন, এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। আমরা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন,
“ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে। গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়া করে নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না।"
স্থানীয়দের প্রশ্ন ও হতাশা তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—উদ্বোধনের আগে কেন কাজ সম্পূর্ণ করা হলো না?
এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা লাইব্রেরি চালুর অপেক্ষায় আছি। পড়াশোনার জন্য একটি ভালো পরিবেশ দরকার। কিন্তু তিন মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ লাগছে।”
সচেতন মহলের মতে, একটি পাবলিক লাইব্রেরি শুধু ভবন নয়; এটি একটি সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান। সেখানে বই, আসবাব, আলো-বিদ্যুৎ ও পাঠকের উপস্থিতিই প্রাণ সঞ্চার করে। এসব প্রস্তুতি ছাড়া উদ্বোধন করায় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
প্রত্যাশা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় স্থানীয়রা দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন, প্রয়োজনীয় বই ও আসবাব সরবরাহ এবং নিয়মিত কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছেন। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে একটি আধুনিক ও কার্যকর পাবলিক লাইব্রেরি অপরিহার্য—এমনটাই মনে করছেন শিক্ষানুরাগীরা।
এখন দেখার বিষয়, কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বাস্তবিক অর্থে প্রাণ ফিরে পায় খানসামা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি।