গনকন্ঠ প্রতিবেদক, নাগেশ্বরী
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জমি নিয়ে বিরোধ: ৩০ ঘণ্টা পর দাফন হলো বাবার মরদেহ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকার পর অবশেষে দাফন করা হয়েছে বৃদ্ধ আজিজার রহমানের (৭৫) মরদেহ।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকার পর অবশেষে দাফন করা হয়েছে বৃদ্ধ আজিজার রহমানের (৭৫) মরদেহ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সমঝোতা হওয়ার পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী পৌরসভার কাছারী পায়ড়াডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আজিজার রহমান গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু জানাজার আগমুহূর্তে বিপত্তি ঘটান তার প্রথম পক্ষের সন্তানরা।
বিরোধের নেপথ্যে
অভিযোগ রয়েছে, আজিজার রহমান তার জীবদ্দশায় বসতভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বড় অংশ দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আব্দুল হাকিম ওরফে মনভোলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার সকালে জানাজার জন্য লোকজন জড়ো হলে আব্দুল হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টনের দাবি তুলে দাফনে বাধা দেন। ফলে স্থগিত হয়ে যায় জানাজা।
দিনভর টানটান উত্তেজনা
সকাল গড়িয়ে রাত হলেও লাশের খাটিয়া ঘিরে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে দাফন আটকে থাকে। দীর্ঘ সময় কাফন পরা অবস্থায় মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মানবিক দিক বিবেচনায় স্থানীয় মুরুব্বি ও জনপ্রতিনিধিরা দফায় দফায় সালিশি বৈঠকে বসেন। অবশেষে বুধবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা খয়বর আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একটি লিখিত সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্তে জানানো হয়:
বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন।
বাকি অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে রাখা হবে।
আবাদি জমি আইনানুগভাবে সুষ্ঠু বণ্টনের অঙ্গীকার করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর রাত ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, সম্পত্তির লোভে বাবার মরদেহ দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা আটকে রাখা একটি অমানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।