বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:২০ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়’: হাসিনার দণ্ডাদেশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতি


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশের পর এক বিবৃতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "ক্ষমতার অবস্থান যা-ই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়— এই রায় তা আবারও প্রমাণ করেছে।"


প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আদালতের দেওয়া এই রায় দেশজুড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে: যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।


অধ্যাপক ইউনূস মনে করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ এবং এখনও সেই ক্ষত বহনকারী পরিবারগুলোর জন্য এই রায় সীমিত মাত্রায় হলেও ন্যায়বিচার এনে দিয়েছে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বছরের পর বছরের নিপীড়নে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যে অপরাধগুলো নিয়ে বিচার হয়েছে, তা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ ও শিশু— যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর— তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের আদেশ আমাদের আইন এবং সরকার-নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে লঙ্ঘন করেছে। তাঁর মতে, এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মূল মূল্যবোধ— মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার— কে আঘাত করেছে।


বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, "প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা শুধুই সংখ্যা নন; তারা ছিলেন আমাদের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক।" তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি— এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও— ব্যবহার করা হয়েছিল। এই রায় তাদের ভোগান্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং বিচারব্যবস্থায় অপরাধীদের জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।


অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহিতার ধারায় পুনরায় যুক্ত হচ্ছে, যা পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং অনেকেই জীবন দিয়ে তার মূল্য দিয়েছেন— তাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।


সামনের পথচলায় শুধু আইনি জবাবদিহিতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য মানুষ কেন সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলে— তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সাথে সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাংলাদেশে শুধু নামেমাত্র টিকে থাকবে না; এটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুদৃঢ় হবে।