এম এ রাজ্জাক, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল।
কিন্তু শুক্রবার সকালে হঠাৎ এক খবরে বিষাদের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। যে আয়োজনে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল প্রবীণ নেতা আলহাজ্ব কোহিনুর শিকদারের, নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই মাঠেই অনুষ্ঠিত হলো তাঁর জানাজা। আনন্দের আয়োজন মুহূর্তেই রূপ নেয় গভীর শোকে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই গণসংবর্ধনা ও গণ-ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ।
জানা যায়, এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল আলহাজ্ব কোহিনুর শিকদারের। কিন্তু শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। প্রবীণ এই নেতা বেশ কিছুদিন ধরে নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।
তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
এদিন সন্ধ্যায় ইফতারের পূর্বে কলেজ মাঠে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজনের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় প্রিয় নেতাকে হারানোর বেদনায়।
ইফতারের আগে মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি সদ্য প্রয়াত কোহিনুর শিকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উক্ত ইফতার ও দোয়ার মাহফিলে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে ওই একই কলেজ মাঠে মরহুম কোহিনুর শিকদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যে মাঠে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা ছিল, সেখানেই হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে বিদায় জানান।
পরে শুক্রবার রাতেই বেজগাঁও মাদ্রাসা কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।