সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ পাগলা কুকুরের অতর্কিত আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন রক্তাক্ত ও জখম হয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে কুকুরগুলো একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর বাজারে লোকজনের ভিড় বাড়লে কয়েকটি কুকুর হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে একজনকে আক্রমণ করার পর লোকজন এগিয়ে এলে কুকুরগুলো দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে এবং সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়ে জখম করে। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর ৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এর মধ্যে গদা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (৫০),
নাবিল (১০), কেশবা গ্রামে রুপালি, মধ্য রাজিব চেংমারী গ্রামের শাহজালাল ইসলাম (৪০), দীপক চন্দ্র রায় (১৯) ভুক্তভোগী মিলন হোসেন জানান, "আমার ছেলে ইফতার কিনতে গিয়ে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। তাকে বাঁচাতে এখন রংপুরে দৌড়াতে হচ্ছে।"
আক্রান্তরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আরও বিপাকে পড়েন। হাসপাতালে জলাতঙ্কের কোনো সরকারি ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।শাহজালাল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী জানান হাসপাতালে এসে কোনো ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন,
বর্তমানে আমাদের এখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুদ নেই। আমরা আহত ১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
হঠাৎ কুকুরের এমন আক্রমণ এবং হাসপাতালে প্রতিষেধক না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সরকারি ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।