ইঞ্জিঃ মো. আজহার উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:১৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
কালের পরিক্রমায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নদীর পাড়ের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ভরাট রোধ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করবে।
এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরের শিমরাইলকান্দি মসজিদঘাট থেকে মেড্ডা শ্মশানঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকা নৌপথে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। পরিদর্শনকালে তিনি নদীর দুই পাড়ে অবৈধ ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ, বাজার ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলে দূষণের ভয়াবহ চিত্র সরেজমিনে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসক বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণ তিতাস আজ বিলীন হওয়ার পথে। নদীর দুই পাশে যেভাবে বর্জ্য ফেলা ও ভরাট করে অবৈধ দখল করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি জানান, সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তিতাস পাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনাই নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারের আদলে এখানে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে তিতাসকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে এবং নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক। অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর নদীর দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মো. শরীফুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) ও প্রশাসক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা; আকাশ দত্ত, নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড; মোহাম্মদ নাহিদ হোসেন, কর্মকর্তা, আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদীবন্দর (বিআইডব্লিউটিএ); এম এম রকীব উর রাজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); এবং জাবেদ রহিম বিজন, সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব।
এ সময় নদী রক্ষা, খনন ও সীমানা নির্ধারণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কার্যকর পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণপ্রবাহ তিতাস আবারও তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।