বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৫ , ০২:১৪ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

অক্টোবরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৮০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২২ হাজারের বেশি

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ নগর ছাড়িয়ে এখন গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলস্বরূপ, ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে। এই এক মাসে ৮০ জন মারা গেছেন এবং ২২ হাজার ৫২০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের আর কোনো মাসে এত মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি।


চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:


জানুয়ারি: ১০ জনের মৃত্যু এবং ১,১৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি।


ফেব্রুয়ারি: ৩ জনের মৃত্যু এবং ৩৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি।


মার্চ: কারও মৃত্যু না হলেও ৩৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।


এপ্রিল: ৭ জনের মৃত্যু এবং ৭০১ জন হাসপাতালে ভর্তি।


মে: ৩ জনের মৃত্যু এবং ১,৭৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি।


জুন: ১৯ জনের মৃত্যু এবং ৫,৯৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি।


জুলাই: ৪১ জনের মৃত্যু এবং ১০,৬৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি।


আগস্ট: ৩৯ জনের মৃত্যু এবং ১০,৪৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।


সেপ্টেম্বর: ৭৬ জনের মৃত্যু এবং ১৫,৮৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।


চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬৯ হাজার ৮৬২ জন। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮০২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং মোট ২৭৮ জন মারা গেছেন।


বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সারা বছরই হচ্ছে, তবে বৃষ্টি শুরু হলে এর প্রকোপ বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে এবং একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।


কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।


উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।