গণকন্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

ওসির সামনেই সেকেন্ড অফিসারকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বললেন হাসনাত

ছবি : সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি থানার সেকেন্ড অফিসারকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার নির্দেশনা দেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন অভিযোগ তোলেন।

সভায় উপস্থিত দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের সামনেই দেবিদ্বার থানার সেকেন্ড অফিসার মতিনকে করাপ্টেড এবং থানায় দালাল সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।

হাসনাত আবদুল্লাহ ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওসি আন্তরিক থাকলেও উনার অফিসাররা আন্তরিক না। সেকেন্ড অফিসার হচ্ছেন ফুললি করাপ্টেড। টাকা ছাড়া উনার কোনো পা চলে না। আরেকজন হচ্ছেন এসআই ভবতোষ। টাকা ছাড়া উনি একটা পা মুভ করেন না। আপনি কাউকে ধরতে যাবেন, উনি থানা থেকে ফোন দিয়ে বলে দিলেন, আমরা আসছি। তাইলে তো এখানে একটা ফিলোসোফিং চোর-পুলিশ খেলা হয়।

সভায় ওসিকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আরও বলেন, আপনার থানা আপনি চালান না। আপনার থানা চালায় হেলাল। আমি এখানে ফ্যাক্ট বেইজ কথা বলছি। একটা কথাও না জেনে বলছি না। আপনার থানা চালায় হেলাল, হেলালের বাবা আগে চাকরি করত। আপনি হয়তো বলতে পারেন এসব কথা আপনাদের লিগ্যাল প্রসিডিউর নয়, জানে না, এটা না, সেটা না। আপনাদের থানায় এ ঘটনাগুলো ঘটছে প্রতিদিন। হেলাল আপনার থানায় ঢুকতে পারবে না। আজকের পর থেকে আপনার থানা চালাবেন আপনি। আপনার পুলিশ অফিসার যারা আছেন, তারা চালাবেন।

তিনি বলেন, আমি যত সহজে আপনার কাছে যেতে পারি একটা ভুক্তভোগী স্বাভাবিকভাবে আপনার কাছে সেভাবে যেতে পারে না। আমি আপনার কাছে সহজে আসতে পারি, একটা গ্রামের স্বাভাবিক ভুক্তভোগীর একটা ভয় কাজ করে। পুলিশের কাছে যাওয়ার আগেই এক ধরনের পুলিশ আছে। যারা হচ্ছে অচাকরিজীবী পুলিশ।

একই সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটিখেকোরা আগে থেকেই পুলিশকে সময় জানিয়ে দেয় কখন মাটি কাটবে। এসিল্যান্ড বা ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, ফলে স্পটে কাউকে পাওয়া যায় না। এক-দুই লাখ টাকা জরিমানাকেও তারা বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নেয়। তিনি দাবি করেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে থানার কিছু সদস্য জড়িত।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।