মোঃ মহিবুল, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (পাথরঘাটা, বরগুনা)

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখল ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মামুনের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মামুন এর বিরুদ্ধে বেরীবাঁধ ও সরকারি জমিতে স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, একটি সরকারি দপ্তরের এই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার ও বান্ধাঘাটাসহ একাধিক স্থানে নতুন করে হাট-বাজার ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বেরীবাঁধের ওপর ও ঢালে অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। এছাড়া ভূমিহীন কিছু পরিবার সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনা নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা কার্যালয়ের মামুনকে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে। বহুতল ভবন থেকে শুরু করে ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা একই প্রক্রিয়ায় নির্মিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীরা জানান, পাথরঘাটা পৌরশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কিছু লোক স্থাপনার কাজ করছেন। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের মামুনকে টাকা দিয়েই কাজ করছেন।


অপরদিকে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমা টেংড়া বাজার এলাকায় বেরীবাঁধের ওপর বন বিভাগের হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর উত্তোলন করা হয়েছে। এসব ঘর তোলার অনুমতি পানি উন্নয়ন বোর্ড দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘর উত্তোলনের সময় বন বিভাগ বাধা দিলেও মামুনের নাম ভাঙিয়ে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তারা। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে দোকানঘর উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তার কাছে মামুন দুই লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় তাকে ঘর তুলতে দেওয়া হয়নি। পরে এমাদুল গাজী দুই লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এভাবেই সরকারি জমি বিক্রি করে চলছেন মামুন।


পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুন বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি অনেককে দখলে দিয়েছেন। এমনকি বন বিভাগের গাছ কেটে আর্থিক লেনদেন করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনায়নের ছোট ছোট চারা গাছ নষ্ট করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে দোকান তোলার জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।


পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘর তোলার অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই তার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যেভাবে শুনছি, তাতে মনে হয় পাথরঘাটার মালিক যেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুন নিজেই।


অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা কার্যালয়ে মো. মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্থান ত্যাগ করেন।


এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরগুনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন,  আমাদের জমি বিভিন্ন জায়গায় দখল হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ পাচ্ছি। তবে মামুন যে আমাদের নাম বলে টাকা নিচ্ছে এটা আমাদের জানা নেই। সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।