মহিব উল্লাহ মহিব সুবর্ণচর (নোয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের অসহায় বিধবা আয়েশা বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের একদিন পরই এগিয়ে এলেন নাছির উদ্দীন নাছির। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তিন সন্তানের জননী আয়েশার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
গতকাল প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসে, সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা বেগম প্রায় দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী আমির হোসেন লেদুকে হারান।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর তিন সন্তান—মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অভাবের তাড়নায় কখনো শুধু পানি খেয়ে, কখনো পচা বা বাসি ভাত খেয়েই তাদের সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে—এমন হৃদয়বিদারক চিত্রই উঠে আসে প্রতিবেদনে।
সংবাদটি প্রকাশ্যে এলে তা নজরে আসে ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছিরের। এরপর আজ বিকেলে তার পক্ষ থেকে আয়েশা বেগমের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, ইফতার সামগ্রী, চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য তুলে দেওয়া হয়।
সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিব উল্যাহ বাবুল, যুবদলের সভাপতি জাফর উল্যাহ ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সহায়তা হস্তান্তরের সময় ভিডিও কলে আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি ঈদের আগেই একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সন্তানদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নিহত আমির হোসেন পেশায় ছিলেন পিকআপ চালক। ভয়াবহ বন্যায় সবজিখেত তলিয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজ শুরু করেন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি পিকআপ নিয়ে গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ তার ওপর ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার পকেটে এক টাকাও ছিল না; এলাকাবাসী চাঁদা তুলে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগম সন্তানদের নিয়ে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছিলেন। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছিলেন তারা।
সংবাদ প্রকাশের পর ছাত্রদল নেতার এ উদ্যোগে আয়েশা বেগমের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুত ঘর নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে অসহায় এই পরিবারের।