প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় গোলাম মোস্তফা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির গোপনাঙ্গ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী সারমিন আক্তার সাথীর (২৯) বিরুদ্ধে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। পরে আহত স্বামী মোস্তফাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ সাথীকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে পঞ্চগড় সদর থানায় রয়েছেন।
আহত স্বামী মোস্তফা ওই গ্রামের সুজাউল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ও দিনমজুর।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে মোস্তফা ও সাথীর বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে এক মেয়ে সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। রবিবার ভোর রাতে পরিবারের সদস্যরা সেহরি খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। স্বামী মোস্তফাও সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরই মাঝে ভোর ৬টার দিকে মোস্তফা বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি শুরু করে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তবে ঘটনার কারণ কি তা পরিবারটি জানাতে পারে নি।
এদিকে, প্রায় ৬ মাস আগে আটক সাথী পারিবারিক দ্বন্দ্বে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে পরিবারটির দাবি। তবে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পরেও বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে।
মোস্তফার বাবা সুজাউল হক বলেন, ভোরে ছেলে আমাদের ডাকাডাকি করলে আমরা আমাদের ঘরের দরজা খুলি। এর পর সে তার গোপনাঙ্গ হাতে নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুঙ্গি তুলে আমাদের দেখায়। একই সাথে বৌমা কেটে দিয়েছে বলে আমাদের বলে। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় হাসপাতালে নিলে তাকে রংপুরে পাঠায় চিকিৎসক। আমার ছেলের সাথে এমন ঘটনায় আমি বিচার চাই।
মোস্তফার ছোট ভাই মুন্না হাসান বলেন, আমরা জেনেছি গতকাল শনিবার আমার ভাতিজির মাধ্যমে (আটক সাথীর মেয়ে) দোকান থেকে ব্লেড কিনে আনে। সেই ব্লেড দিয়ে আমার ভাইকে শেষ করে দিয়েছে। ঘটনার পর আমরা ব্লেডটি রক্তাক্ত বিছানার নিচে পেয়েছি। আর যেন কোন পরিবারে এমন ঘটনা না ঘটে এবং কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস যেন না পায় সে দিক বিবেচনা করে আমরা এর সুষ্ঠু ও কঠিন বিচার দাবি করছি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে কোন কথা বলছেন না। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ