গণকন্ঠ প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

প্রশাসনের উপস্থিতিতে শহীদ মিনারে জুতা পায়ে ওঠার অভিযোগ: অতঃপর তুমুল আলোচনা

ছবি; গণকন্ঠ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠে পুষ্পস্তবক অর্পণের অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে “বাহুবল প্রেসক্লাব” নামের একটি সংগঠনের সাংবাদিক পরিচয় দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, টিপু সুলতান নামের ওই ব্যক্তি জুতা না খুলেই শহীদ মিনারের বেদিতে উঠে ফুল দেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত জনতার মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করে।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, টিপু সুলতান নামের ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পর পরিচয় ব্যবহার করেন এবং কখনো সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, তিনি হলুদ সাংবাদিকত,  দশম শ্রেণীর একাডেমিক পড়াশোনা সম্পন্ন না করেও সাংবাদিক পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এছাড়া রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভারতীয় অবৈধ পণ্য প্রবেশ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 


এ বিষয়ে মূলধারার সাংবাদিকদের সংগঠন বাহুবল মডেল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কখনো সাংবাদিক ছিল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কখনোই এ প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন না। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় কোনো স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠন নেবে না। সে কোন সাংবাদিক না, এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।”


এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহবুবুল ইসলাম।


সচেতন মহলের মতে, ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো রাষ্ট্রীয় ও আবেগঘন অনুষ্ঠানে আচরণগত শালীনতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।