প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা ও লালবাগে পৃথক ঘটনায় দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে ঘটনা দুটি ঘটেছে।
মৃতরা হলেন, নিউমার্কেট এলাকায় খাদিজা আক্তার (২৩) ও লালাবাগে চুন্নু সর্দার (৫০)।
ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ সুত্রধর জানান, শনিবার রাতে ট্রিপল নাইনে সংবাদ পেয়ে অত্র থানাধীন এলিফ্যান্ট রোড তাজউদ্দীন টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় খাদিজা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
ওই বাসার গৃহকর্ত্রী শাহনাজ বলেন, সেখানে বেশ কয়েক মাস যাবৎ স্বামী সাকিনকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন খাদিজা। যেদিন স্বামী থাকতেন না, সেই সময় জেরিন নামে এক বান্ধবী খাদিজার সঙ্গে থাকতেন। খাদিজা চাকরি করতেন। তার সংসারের খরচ তার বাবাই বহন করতেন। তার স্বামী এখনো পড়াশোনা করতেন বলে শুনেছিলাম। গত রাতে তার বান্ধবী ফোন করে বলেন, খাদিজা ফোন ধরছে না। পরে গিয়ে খাদিজাকে ডাকাডাকি করি। কিন্তু রুমও খুলছিল না। পরে তার স্বামী ও বাবাকে সংবাদ দেই। পুলিশকে ট্রিপল নাইনে সংবাদ দেওয়া হয়। এরপর দরজা খুলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
খাদিজা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে।
অন্যদিকে, আজ সকাল ১০টার দিকে লালবাগ থানার শহিদ নগর ২ নম্বর গলির বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় চুন্নু সর্দার নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন।
তিনি বরিশাল মুলাদি উপজেলার বাইলাতলী গ্রামের মৃত আলালউদ্দিনের ছেলে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবারের বরাত দিয়ে লালবাগ থানার উপপরিদর্শক এসআই নাজমুল হোসেন বলেন, চুন্নু ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। তিনি শহিদ নগরের ওই বাসায় সাবলেট থাকতেন।
তিনি বলেন, চুন্নু আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে থাকে। পরিবার পরিচালনা, আর্থিক সমস্যা নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন চুন্নু।
হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া, তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে।