Minur Joy
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ফ্রন্টলাইনে অবস্থান নিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করছেন ইউক্রেনের একটি এয়ার ডিফেন্স ইউনিটের সদস্যরা। (ফাইল ছবি: খারকিভ অঞ্চল, ইউক্রেন)
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১,৩০৩তম দিনে লড়াই থেকে শুরু করে কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির নানা দিক উঠে এসেছে বৈশ্বিক সংবাদ শিরোনামে।
যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ অবস্থা
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বাশকোরতোস্তান অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের আরেকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন তাদের তেল–গ্যাস খাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ামপোল গ্রাম দখল করেছে এবং আশপাশের পাঁচটি আবাসিক এলাকায় নতুন অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, তারা “প্রায় সব ফ্রন্টেই” অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্বাঞ্চলের পোক্রভস্ক শহরে রুশ বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনারা “বীরত্বের সঙ্গে” প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে লাটভিয়ার বন্দরনগরী ভেন্টস্পিলসের কাছে রুশ ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রুডস জানিয়েছেন, এটি একটি “ডিকয়” গেরবেরা ড্রোনের লেজ এবং এতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর পোল্যান্ডকে ৭৮০ মিলিয়ন ডলারের জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ উদ্যোগ ন্যাটো মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করবে। ইউক্রেন ঘোষণা করেছে যে তারা পোলিশ সেনা ও প্রকৌশলীদের ড্রোন প্রতিরক্ষা কৌশল শিখিয়ে দেবে। এর আগে পোলিশ ও ন্যাটো বাহিনী এক সপ্তাহে ২০টির বেশি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছিল। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিউস কুবিলিয়ুস জানিয়েছেন, ইইউ–এর পূর্ব সীমান্তে “ড্রোন ওয়াল” গড়ার বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক হবে। আর তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি।
অর্থনীতি ও জ্বালানি
রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও তেলের দাম ওঠানামার কারণে রাজস্ব রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার তেল–গ্যাস বিক্রি গত বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমতে পারে। পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধনীদের ওপর কর বাড়ানো হতে পারে। বিলাসপণ্য ও শেয়ার লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে মস্কো।
নিষেধাজ্ঞা
ইউরোপীয় কমিশন তাদের ১৯তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ আনতে যাচ্ছে। এতে রুশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি নিষিদ্ধের প্রস্তাব রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও ৯৫টি রুশ তেল ট্যাংকারের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যেগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে দেশটি রুশ তেলের মূল্যসীমা ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৭.৬০ ডলার করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও জাপানও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।