গণকন্ঠ প্রতিবেদক

আব্দুল্লাহ আল মামুন, লক্ষীপুর প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

রায়পুরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী সবজি উৎসব

ছবি; গণকন্ঠ

বেশি বেশি সবজি খাও, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হও, কৃষি ও কৃষকের পাশে দাঁড়াও’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে রায়পুরে  কে এফ এস সি শিশুকাননে স্কুলে প্রথম  বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশজ সবজি উৎসব। বৃহস্পতিবার  (২৬ ফেব্রুয়ারি) রায়পুর কে এফ এস সি শিশুকাননে স্কুলে এই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করা হয়।

সবজি উৎসবে অংশ নেওয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ডালায় সাজিয়ে আনা সবজির নাম এবং বিভিন্ন গুণাগুণ তুলে ধরে। পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর চেনা-জানা সবজি সম্পর্কে অপর শিক্ষার্থীকে অবহিত কর।


শিশুদের দেশীয় সবজির প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকারক চটকদার খাবার থেকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। উৎসবে প্রায় ৫০টির অধিক দেশীয় সবজি নিয়ে  প্রায় ছয়শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।


 এসব সবজির মধ্যে রয়েছে, বরবটি, শিম, মটরশুটি, ফুলকপি, ব্রকোলি, কুমড়া, কুমড়া ফুল, কাঁচা কলা, কলা গাছের আইলকা, বিভিন্ন প্রজাতির শাক, ধনেপাতা, লেটুসপাতা, বাঁধাকপি, সজিনা পাতা, লাউ, থানকুনিপাতা, গাজর, মূলা, শালগম, বিট, গোল আলু, মেটে আলু, পেঁপে, টমেটো, বেগুন, চাল কুমড়া, করলা, কাকরোল, ঢেঁড়শ, পটল, শশা ইত্যাদি।


বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলে, ‌এই আয়োজনের ফলে তারা অনেক সবজির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। সবজির গুণাগুণ সম্পর্কে নিজেরা জেনেছে এবং অপরকে জানাতে পেরেছে।


অভিভাবকরা জানান, শিশুরা একসঙ্গে এত সবজি কখনও দেখার সুযোগ হয়নি। এই উৎসবের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকমের সবজি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এতে শিশুরা সবজি খাওয়ার প্রতি আকৃষ্ট হবে। দেশের প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এই ধরনের আয়োজ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।


রায়পুর কে এফ এস সি শিশুকাননে স্কুলে প্রধান শিক্ষক  বলেন, বাংলাদেশে আর কোথাও এভাবে সবজি উৎসবের করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে রায়পুরে আমরাই প্রথম সবজি উৎসবের আয়োজন করেছি। 


একসঙ্গে এত সবজি দেখে শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সবজি চিনতে এবং জানতে পেরেছে।প্রতিটা মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।


 বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে আবশ্যক।‌ অথচ বর্তমান সময়ে শিশুরা পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে চটকদার খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। অথচ আমাদের দেশীয় ফল- সবজিতে খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং ঔষধি গুণাগুণ থাকে। 


এসব শাকসবজি বা ফল আমাদের হাতের নাগালে পাওয়া যায়। যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বারো মাস পাওয়া যায়। ‌এসব দেশীয় সবজি হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির এক অনন্য উৎস। মূলত এসব কারণেই শিক্ষার্থীদের সবজির প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য থেকে নিরুৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়েছে।