গণকন্ঠ প্রতিবেদক

সাজ্জাদ হোসেন , সালথা প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

সালথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা শ্যামা ওবায়েদের

ছবি; গণকন্ঠ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সালথার প্রতিটি ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

দলীয় পরিচয়ে মারামারি, বন্দুকবাজি বা সহিংসতার কোনো স্থান নেই—এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কারও কোনো লাভ হয় না; বরং মামলা-মোকদ্দমা ও হাসপাতালে যাওয়ার মতো দুর্ভোগই বাড়ে।


শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।“রমজানে জনগণের পাশে থাকুন, অপকর্ম থেকে দূরে থাকুন”।


শামা ওবায়েদ বলেন, মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মী ও সামনে থাকা মুরুব্বিদের প্রতি তার উদাত্ত আহ্বান—সব ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে থেকে পবিত্র রমজান মাসে জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনসেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে।


তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনো উল্টাপাল্টা কাজ বা দুই নম্বর কাজে কেউ জড়িত থাকলে আইন আইনের গতিতেই চলবে। সে যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক, যে ঘরেরই হোক—এতে কোনো ছাড় নেই। আমার দায়িত্ব সবার জন্য।”


তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আর যারা দেননি—আমি সবার প্রতিনিধি। আমি শুধু বিএনপির এমপি নই; আমি পুরো এলাকার মানুষের এমপি।”


মারামারি-সংঘাত বন্ধ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “সমগ্র উপজেলায় কীভাবে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, আমাদের ইয়াং জেনারেশনের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়া যায়, শিক্ষাব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট কীভাবে উন্নত করা যায়—সেদিকেই মনোযোগ দিতে হবে। এ জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”


“এমপি নয়, আপনাদের মেয়ে হিসেবে এসেছি”

আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি আজ এখানে এমপি বা মন্ত্রী হিসেবে আসিনি; আপনাদের মেয়ে হিসেবে এসেছি। আপনাদের সন্তান হিসেবে সবসময় পাশে থাকতে চাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনাদের সন্তান ও মেয়ে হিসেবেই থাকতে চাই—এর বাইরে আমার আর কোনো পরিচয় প্রয়োজন নেই।”


অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা জনগণের পাশে থাকবেন, জনসেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানে এগিয়ে আসবেন।”


এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।



এলাকার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে পরিচিত শামা ওবায়েদ তার পিতা, প্রয়াত ওবায়দুর রহমান-এর স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার বাবা এমপি থাকাকালীন যেমন ছিলেন, মন্ত্রী থাকাকালীন যেমন ছিলেন, এমনকি কোনো পদে না থাকলেও মানুষের পাশে ছিলেন। আমিও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে থাকতে চাই। আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে পালন করতে পারি—সেজন্য সবার দোয়া চাই।”


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার শপথ নেওয়ার ১১–১২ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার সারা দেশে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করছে, যা ধীরে ধীরে প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়নে বিস্তৃত হবে।”


তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে প্রায় ১১–১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন এবং কৃষকদের ঋণের বোঝা কমবে।


সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “নির্বাচনের সময় বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখেছি—কোথাও রাস্তা নেই, কোথাও ব্রিজ প্রয়োজন। দ্রুত পরিকল্পনা তৈরি করে আমাকে জানান; আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ শুরু করতে চাই।”

এছাড়া এলাকায় একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা দ্রুত হাতে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—“চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ও মাদককে না বলতে হবে। সালথার মাটিতে কোনো অন্যায় হতে দেওয়া হবে না। কেউ অন্যায় করলে আইন আইনের গতিতেই চলবে। তদবির নিয়ে আমার কাছে আসবেন না; দেশে আইন ও আদালত আছে, তারাই বিচার করবে।”


দোয়া ও ইফতার মাহফিলে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শাহিন মাতুব্বর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান, বল্লভদী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান শাহিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।