গণকন্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০২:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কৃষিজমি ধ্বংস, পরিবেশ হুমকির মুখে — চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের

ছবি:সংগৃহীত

‎সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবাধে চলছে পুকুর খননের কার্যক্রম।

 অভিযোগ রয়েছে, দিনে ও রাতে একযোগে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি স্থানে পুকুর খনন করা হচ্ছে, অথচ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।


‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেকু ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফসলি জমি, আবাদি জমি এমনকি বসতভিটা সংলগ্ন এলাকাতেও পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতির ওপর পড়ছে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব। বহু এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আশপাশের বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।


‎স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‎ “প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব কাজ চলছে। বারবার জানানো হলেও কেউ কর্ণপাত করছে না। অনেক জায়গায় গভীর রাতে কাজ হয়, যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে। আবার কোথাও দিনে প্রকাশ্যেই খনন চলছে।”


‎পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পনাহীন ও অবৈধ পুকুর খনন দীর্ঘমেয়াদে এলাকার পরিবেশ, কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। এতে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


‎শস্য ভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী চলনবিল এলাকার তিন ফসলি জমিতে এভাবে পুকুর খননের হিড়িক স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


‎এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন,‎ “কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”


‎তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দু-একটি জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অধিকাংশ এলাকায় অবাধে দিন-রাত খনন কার্যক্রম চলছে, যা প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিরই প্রমাণ।


‎সচেতন নাগরিকদের দাবি—অবিলম্বে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে তাড়াশ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়বে।