রবিউল মোল্লা, (ভেদরগঞ্জ ) শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০২:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
শরীয়তপুরের সমাজসেবক শিল্পপতি শাহাজাহান মুন্সি। এলাকায় তিনি দানবীর নামে পরিচিত। কোথায় অর্থকষ্ট কিংবা খাদ্য সহয়তা সবার আগে জাব্বার পল্লী। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এই সংগঠন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সবসময় কাজ করেন।
ইতিমধ্যেই শরীয়তপুরের সখিপুর মুন্সি কান্দি এলাকায় 'জাব্বার পল্লী' নামে হাসপাতাল, মাদরাসা, দৃষ্টি নন্দন মসজিদ সহ নির্মাণ করেছেন বহু প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী দাফনের জায়গা সংকটে ভুগছেন।
পুরোনো কবরস্থানে জায়গা স্বল্পতার কারণে অনেক পরিবারকে দূরবর্তী স্থানে স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে এবার নতুন করে স্থানীয়দের অনুরোধে একটি গণ কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে জব্বার পল্লী। এইজন্য জমি কিনে সেখানে গণ কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কার শুরু করেন। কাজের শুরুতেই ক্রয় করা জমি নিজের দাবি করে সেখানে বাঁধা সৃষ্টি করেন স্থানীয় আফসার মুন্সি, আক্তার মুন্সি, ও তার লোকজন। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাজাহান মুন্সিকে 'ভূমি দস্যু' আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে। একই সঙ্গে তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে কবরস্থান নির্মাণকাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জব্বার পল্লীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
গতকাল রবিবার বিকেল জব্বার পল্লীতে গিয়ে দেখা যায় গণ কবরস্থানে সীমানা প্রাচীর করা হচ্ছে। পাশেই প্রতিপক্ষ আফসার মুন্সির লোকজন দাড়িয়ে আছে তারা শ্রমিকদের কাজ করতে দিচ্ছে না। সীমানা পিলারে মালামাল ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এনিয়ে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা হলেও মানছেন না আফসার মুন্সি ও আক্তার মুন্সি। তাদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আসার অনুরোধ করা হলেও কাগজপত্র না দেখিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল নিতে চায় আফসার মুন্সির লোকজন। বর্তমানে মানুষের জন্য গণ কবরস্থান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবী জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য গণ কবরস্থানটি চালু করা হউক।
স্থানীয় ফখরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, আমাদের এলাকায় এই ধরনের গণ কবরস্থান নেই। শিল্পপতি শাহজাহান মুন্সি নিজ অর্থায়নে এখানে মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল করে দিচ্ছেন এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য। এখানে আমাদের দাবীর মুখে তিনি গণ কবরস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি জমি না থাকলেও জমি পাবে বলে গণ কবরস্থান নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছেন। এখানে ভালো কাজে বাঁধা দেওয়ার মানে হয় না। যদি জমি পেয়ে থাকে এখানে স্থানীয় লোকজন আছে প্রশাসন আছে তাদের না জানিয়ে তাঁরা এই ধরনের মানবিক কাজে বাঁধা দিচ্ছেন।
রাসেল আহমেদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শরীয়তপুরের কোথাও এই ধরনের মানবিক কাজ কেউ করে বলে মনে হয় না। একসাথে নিজ এলাকায় মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল ও গণ কবরস্থান আমি কাউকে করতে দেখিনি। এটাতো আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের জন্যই করা হচ্ছে। সেখানে বাঁধা দিচ্ছেন কয়েকজন দুষ্ট লোক। দেখলাম ফেসবুকে একজন মানবিক ওসম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে এটা মোটেও উচিত হচ্ছে না। আমি মনে করি তাঁরা জমি পেয়ে থাকলে দেশে আইন আদালত আছে সেখানে যাবে। কিন্তু সেখানে না গিয়ে চাঁদাবাজের মতো কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। এই এই কর্মকাণ্ডের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব থাকা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এলাকাবাসীর সুবিধার জন্যই গণ কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের এখানে ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করা। এরমধ্যে ২০ শতাংশ জমি দুদিন আগে সালিশির মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেখানে স্থানীয় শালিস রাজিব সরদার, বুলু সরদার সহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয়পক্ষের সম্মতিতে একটি মিমাংসা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেই রায় না মেনে এখন আমাদের কাজে বাঁধা দিচ্ছেন। আমাদের লোকজনকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। এটা মানবিক কাজ এখানে কেউ জমি দখল করে বাড়ী নির্মাণ করছে না।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার মুন্সি বলেন, আমাদের জমিতে তারা তাদের সীমানা প্রাচীর করার কারণেই আমরা বাধা দিচ্ছি। আমাদের জমি বুঝে না পেলে আমরা কাজ করতে দিবো না।
বিষয়টি নিয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, কাজ বন্ধ করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।