গণকন্ঠ প্রতিবেদক

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৭:২৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনার আলো দেখছেন জ্যোতি সরকার

ছবি সংগৃহীত

শখের বশে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছিলেন রাজারহাট উপজেলার পীরমামুদ গ্রামের জ্যোতি সরকার। সেই শখই আজ তাকে এনে দিয়েছে স্বাবলম্বিতার স্বপ্ন। সূর্যমুখী চাষে সফল হয়ে এখন তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

প্রকৃতির রঙিন প্রতীক সূর্যমুখী ফুল যেমন মাঠজুড়ে ছড়িয়ে দেয় হলুদ মায়ার ছোঁয়া, তেমনি এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল পূরণ করছে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার একটি অংশ। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচে ও স্বল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী এখন কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় ফসল।

জ্যোতি সরকার জানান, শুরুতে অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী আবাদ করেন তিনি। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়ে পরবর্তীতে চাষের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। বর্তমানে তার ক্ষেতে হাজার হাজার সূর্যমুখী দুলছে বাতাসে। প্রতিটি গাছে ভরপুর বীজ, যা থেকে আসতে পারে উল্লেখযোগ্য লাভ।

তিনি বলেন,

“বিভিন্ন নার্সারিতে সূর্যমুখী দেখে ভালো লাগতো। শখ থেকেই শুরু করেছিলাম, এখন এটা বাড়তি আয়ের উৎস। খরচ কম, পরিচর্যাও সহজ। সময়মতো সার ও সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।”

প্রতিদিন বিকেলে তার ক্ষেত দেখতে ভিড় জমায় আশপাশের মানুষ। কেউ আসে ছবি তুলতে, কেউ ভিডিও ধারণ করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে হলুদ ফুলে ভরা সেই মাঠের সৌন্দর্য। ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছিরাও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ জ্যোতি সরকারের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। তার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যেতে পারে দেশের তেলবীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার যাত্রা।