গণকন্ঠ প্রতিবেদক

জুয়েল আহমেদ, তারাগঞ্জ প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:০৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

তারাগঞ্জে সুদের টাকার জন্য গৃহবধূর ঘরে তালা : ইউএনও’র হস্তক্ষেপে মুক্ত সামিরা

ছবি; গণকন্ঠ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সুদের টাকার দাবিতে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর ঘরে লাগানো তালা অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তালাটি খুলে দেওয়া হয়। এতে দুই দিন পর নিজ ঘরে ফেরার সুযোগ পেলেন ভুক্তভোগী সামিরা বেগম।

ভুক্তভোগী সামিরা বেগম উপজেলার হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের পদ্মপুকুর উজিয়াল আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে থাকতেন। জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে সামিরার মেয়ে জান্নাতুল স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী আলমিনা বেগমের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা সুদে ধার নেন। পরবর্তীতে জান্নাতুল চাকরির সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


পাওনা টাকা না পেয়ে দাদন ব্যবসায়ী আলমিনা বেগম সামিরার থাকার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং আসলসহ সুদের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে নিরুপায় সামিরা দুই দিন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর রাত কাটান।


বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। শনিবার রাতে ইউএনও’র নির্দেশক্রমে হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা খুলে সামিরাকে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেন।


নিজের ঘরে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত সামিরা বেগম আঞ্চলিক ভাষায় বলেন

মুই দুই দিন না খেয়া ঘরের বাইরোত পরি আছনু। রোজা মাস শুরু হইছে। রাইতোত যখন ঘরের বাইরোত সুতি আছনু তখন মোর ভয়েতে ঘুমে আইসেনা বাবা। মোক ওই সুদারু যে কষ্ট দিছে আল্লাহর গজব পরবে অর উপর। ইউএনও মোর ঘরের তালা খুলি দেছে ওমার ভালো করবে আল্লাহ।