খন্দকার নিরব, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার তজুমদ্দিনে আশ্রমে কীর্তনে আসা এক হিন্দু নারীকে সমঝোতার প্রলোভনে নির্জন বাগানে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাকিব নামের একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী স্বামী-পরিত্যক্তা ও এক সন্তানের জননী। তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভিকটিমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাতে চাঁদপুর ইউনিয়নের অনিল বাবাজী আশ্রমে কীর্তনে গেলে হোন্ডাচালক রাকিবের সঙ্গে এক হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। পরে ধোপা বাড়ির পেছনের একটি বাগানে গেলে শাকিল ও রাসেল নামে আরও দুইজন সেখানে যোগ দেয়। অভিযোগ, তিনজন মিলে রাতভর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোরের দিকে শশীগঞ্জ দাসপাড়া এলাকায় ফেলে রেখে যায়।
শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুলসী রানী জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরের পাশে এক নারীকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তজুমদ্দিন উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও অনিল বাবাজী আশ্রমের পরিচালক অরবিন্দু দে টিটু বলেন, সকালে স্বপন কুমার দাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ভিকটিমকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শামসুল আলম সোহেল জানান, ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাকিব নামে একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।