Minur Joy
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০১:৫৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ
বাগরাম ঘাঁটির বাইরে একজন আফগান সেনা | ফাইল ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আফগানিস্তানের কৌশলগত বাগরাম বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ফেরত আনতে চান। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাগরাম ঘাঁটি চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত, তাই এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে কমপক্ষে ১০ হাজার মার্কিন সেনা, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মেরামতকাজ এবং বিশাল সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে। এতে বিপুল অর্থায়নেরও প্রয়োজন হবে।
বাগরামের ইতিহাসও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েতদের প্রধান ঘাঁটি ছিল এটি। ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র এটি দখলে নেয় এবং ২০২১ সালে সেনা প্রত্যাহারের সময় তালেবানের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এখন আবার নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও অনেকেই এটিকে অবাস্তব মনে করছেন।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, বিদেশি সেনাদের আর প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না। কাবুল বলছে, তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী, তবে সেটা ‘পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থে’ হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবান রাজি হলেও ঘাঁটি পুনর্নিয়ন্ত্রণের পর যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান, ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার হামলার ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। ফলে সামরিক সুবিধা থাকলেও ঝুঁকি ও ব্যয়ের তুলনায় লাভ অনেকটাই সীমিত হতে পারে।