গণকন্ঠ প্রতিবেদক

মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, শ্বশুরকে কুপিয়ে জখম, স্বামী গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধুকে মারধর এবং তার পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী শাহাদত হোসেন সোহাগ (৩২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নং–১৩/২৬ দায়েরের পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার মোঃ আজাহার আলীর মেয়ে মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা সোমার সঙ্গে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক সোহাগের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমহর ধার্য করা হয় এবং কনের পরিবার ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদান করে।


অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পাঁচ-ছয় মাস পর স্বামীর চাকরির কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও ১০ লাখ টাকা ও কনের পিতার বাড়ির জমি দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা ও জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।


গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে স্বামী সোহাগ বাঁশের লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এ ছাড়া গলা চেপে ধরে নাক-মুখ ও মাথায় কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।


পরে ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার পিতা আজাহার আলীকে জানান। তিনি ছোট মেয়ে ছামিহা খাতুন (৮)-কে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত সোহাগ ধারালো দা দিয়ে আজাহার আলীর মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। এ সময় ছোট বোন ছামিহা খাতুন বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।


স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এ ঘটনায় শাহাদত হোসেন সোহাগ, তার মা মোছাঃ ছাহেরা বেগম এবং পিতা মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।


ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।