গণকন্ঠ প্রতিবেদক

সাইমুন ইসলাম, কলাপাড়া প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ , ১২:১৯ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

ফেসবুক পোস্টের জেরে কলাপাড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মারধরে হত্যার অভিযোগ

ছবি; গণকন্ঠ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মো. ইদ্রিস (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিহতের স্বজনরা তার মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত মো. ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে তিনি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন বলে পরিবারের দাবি।


স্বজনদের অভিযোগ, ২৬ ফেব্রুয়ারি পাখিমারা বাজারে গেলে ইদ্রিসকে ডেকে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও ফোলা জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাসায় নেওয়ার পর সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।


মৃত্যু ইদ্রিসের ভগ্নিপতি শহীদুল গাজী, স্ত্রী আমেনা খাতুন ও ছেলে পারভেজ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে নির্মম মারধরের কারণেই ইদ্রিসের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই ব্যক্তি আমার কাছে মাফ চাইতে এসেছিল। আমি বা আমার সহযোগীরা তাকে মারধর করিনি।”


এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।