মনজু শেখ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; গণকন্ঠ
রাজবাড়ী শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাজবাড়ী পুলিশ লাইন-এর সামনের ফাঁকা জায়গা ও রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
এতে তীব্র দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব ও ধোঁয়ার কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় দশক ধরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওই স্থানে নিয়মিতভাবে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বাজারের বর্জ্য ও গৃহস্থালির ময়লা একসঙ্গে জমে বড় আকারের স্তূপ তৈরি হয়েছে।
অনেক সময় সেগুলো পোড়ানো হলে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একপাশে ছড়িয়ে থাকা পচা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে নাক চেপে যেতে হচ্ছে।
গাড়িচালকদের কেউ কেউ দুর্গন্ধ এড়াতে দ্রুতগতিতে স্থানটি অতিক্রম করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে বাতাসের মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও অ্যাজমাসহ নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলে তার সুফল মেলেনি বলে জানান তারা। দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণ ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং তা অব্যাহত রাখার কথা জানান।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক বলেন, একটি এনজিওর মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে না ফেলে অনিয়মিতভাবে অন্যত্র ফেলার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে এসেছে এবং দ্রুত পরিষ্কার করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ড. মো. মাহমুদুল হক বলেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিকল্প ডাম্পিং স্থানের সন্ধান ও ব্যবস্থাপনা জোরদারে কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।