বিপুল হোসেন সৈকত , রাজশাহী প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ , ১১:২৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি; সংগৃহীত
রাজশাহীর বাঘায় জমিতে পানি দেওয়া পাইপেকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুপক্ষের আহত হয়েছেন ৪ জন, গুরুতর আহত অবস্থায় ২ জনকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বাঘা উপজেলার ০৫ নং বাউসা ইউনিয়নের পীরগাছা মহাজন পাড়া গ্রামে মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ২০২৬ ইং সকাল ১০ টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এবিষয়ে উভয় পক্ষেই বাঘা থানায় ২'টি অভিযোগ করেছে বলে বিশেষ সুত্রে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, বাউসা ইউনিয়নের পীরগাছা গ্রামের সিদ্দিকের বড় ছেলে আবু সুফিয়ান (২৭) গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিচ্ছেন, বাকী আহতরা হলেন তৌহিদ (১৭), তানজিরা (৩৯), বৃদ্ধা আমবিয়া ও আরেক পক্ষের ২'জন বেশ আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত সুফিয়ানের দাদি আমবিয়া বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে আমার নাতির পানি দেওয়ার পাইপ কটছে নান্টুর ছেলে সেদিনই আমরা কাটা পাইপ নান্টুর বাড়িতে রেখে এসেছি সে ওই পাইপের ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল, আজ সকালে এই নিয়ে কথা হলে নান্টু, ঝুন্টু, জানার সহ কয়েকজন এসে আমার নানতিকে খুব মারে সুফিয়ানকে মাটিতে শুয়ে ফেলে ইট দিয়ে বুকের ওপর আঘাত করে, তারা আমাকেউ খুব মেরেছে।
উক্ত ঘটনার একজন সাক্ষী পাখি বেগম বলেন, আমি আমার বাড়িতে ছিলাম মানুষের চিৎকার শুনে আমি বাহিরে এসে দেখি নান্টু, ঝুন্টু, জানার ও নান্টুর বউ এসে সুফিয়ান কে মারধোর করছে। সাহারা তার স্বামীকে বাঁশ/লাঠি এগিয়ে দিচ্ছে, ওরা ৩/৪ জন এসে সুফিয়ানকে একা পেয়ে প্রথমে খুব মারধোর করে।
এবিষয়ে একপক্ষের অভিযোগকারী ও গুরুতর আহত আবু সুফিয়ান বলেন, আমার বাড়ির সামনে পাঁকা রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলাম কিছু দিন আগে আমার পাইপ কাটার বিষয়ে কথা হলে নান্টু, ঝুন্টু, জানার একে একে তারা হাতে লাঠি, লোহার রড়, ধারালো হাসুয়া নিয়ে এসে আমার উপর অর্তকিত হামলা শুরু করে। ঝুন্টু আমায় হত্যার উদ্দেশ্য ধারালো হাসুয়া দিয়ে একটি কোপ মারে গলার দিকে আমি সেটা ঠেকাতে হাত বাড়ালে আমার হাতে কোপ লাগে। আমার হাত গুরুতর জখম হয়েছে, এছাড়াও আমার বুকে ইট দিয়ে আঘাত ও বুকে কামড় মারে। আমার চিৎকারে মা, ভাই, দাদি বাঁচাতে আসলে তাদের ও মারধোর করে তারাও বেশ আহত।
এবিষয়ে আরেক পক্ষ ঝুন্টুর বাড়িতে গেলে, বাড়িতে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি, তার ঘরের দরজায় তালা দেওয়া দেখতে পাওয়া যায়। তাই তাদের অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ডিউটিরত কর্মকর্তা এসআই হারুন বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।