গণকন্ঠ প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ , ১১:০২ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

হবিগঞ্জ-১ আসনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: সিমি কিবরিয়াকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

ছবি; গণকন্ঠ

হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়াকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে সিমি কিবরিয়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়টি ঘিরে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন তোলা হয় এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়।


এ প্রসঙ্গে আইনজ্ঞদের ভাষ্য,  সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা আইনবিরোধী নয়—যতক্ষণ না তা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের পর্যায়ে যায়।


স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে তিনি কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা বা সরকারি সিদ্ধান্ত দেননি; বরং সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বক্তব্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন।


আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে তা দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং তা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।


সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।


এক প্রতিক্রিয়ায় সিমি কিবরিয়া বলেন, “আমি কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি না এবং করবও না। সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে শুধুমাত্র সামাজিক সৌজন্য ও আমন্ত্রণের ভিত্তিতে কিছু অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেছি। এর বাইরে আমার কোনো নির্বাহী বা প্রশাসনিক ভূমিকা নেই।”


তিনি আরও বলেন,

“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। আমি সবসময়ই সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী—এটি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার অংশ, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ নয়।”


সিমি কিবরিয়া দাবি করেন,

“যারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ—যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করবেন না। গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্মানহানি কাম্য নয়।”


রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ থাকলেও ব্যক্তি আক্রমণ বা যাচাইবিহীন প্রচারণা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী—এমন মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।